বিসিএসকে নয়, প্রযুক্তিদক্ষতাকে মূল্যায়ণ করতে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান
বিসিএস নয়, কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তি দক্ষতাকে মূল্যায়ণ করতে গুরুত্ব দিতে বলেছেন দেশের শিক্ষাবিদরা। তাহলে মহামারির মতো পরিস্থিতেও কর্মবাজারে হাহাকার নেমে আসবে না বলেন মনে করেন তারা। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলনে সহমত প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস ২০২০ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘করোনাভাইরাসের সময়ে এবং পরবর্তি সময়ে দক্ষতা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে আমরা কতটুকু প্রস্তুত’ এই বিষয়ে এক ভার্চুয়াল সংলাপে আয়োজনে প্রধান অতিথি বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এই কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মুনাজ আহমেদ নূর, ড্যাফোডিল গ্রুপ সিইও মোহাম্মদ নূরুজ্জামান, দৈনিক প্রথম আলোর যুব কর্মসূচী সমন্বয়ক মুনির হাসান
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট এর নির্বাহী পরিচালক কে এম হাসান রিপন।
অনুষ্ঠানে ডা. দীপু মনি বলেন, সবাই চাকরি করবে না, অনেকে উদ্যোক্তা হবে। কেউ আবার অন্য জগত নিয়ে থাকবে। সবাইকে এক বাক্সে ফেলবার সুযোগ নাই। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমন ভাবে সাজাতে হবে যাতে যে যেটা হতে চায় সে সুযোগ থাকে। যে যেখানেই পড়ুক সে যদি অনার্স মাষ্টারর্স পড়ে পাশ করি আসে চাকরি ক্ষেত্রে যাবার পর তার সেই দক্ষতা আছে কিনা না সেটাও আমাদের দেখতে হবে। আমাদের কেউ কেউ সাহিত্য পড়ে ব্যাংকার হচ্ছে, আমরা স্বপ্নের সাথে সিস্টেমটাকে সে ভাবে মিলাতে পারিনি। তার জন্য সেই সুযোগ তৈরি করতে পারিনি। সে জায়গাটাতে তো আমাদের অনেক কিছু ভাববার আছে।
অনুষ্ঠানে মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, কেন একটা দেশে মানুষ বিসিএস ক্যাডার হতে যাবে, অন্য কোন চাকরি দেখতেই পাচ্ছেন না। দেশের পেপার পত্রিকায়, সামাজিক মাধ্যমে সবাই একটা চাকরিকে প্রাধান্য দেয় যে আমাকে বিসিএর ক্যাডার হতে হবে। এই রকম একটা সমাজে দক্ষ কর্মী চাবেন যে ক্লাশ এইট থেকে টেকনিক্যালে এডুকেশনে চলে যাবে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবে না তা তো হয়না।
মুনির হাসান বলেন, আমাদের তরুণা যতটা উৎসাহ নিয়ে স্কিল বাড়াতে চায়, তারা ততটা হতে পারে না। এইটা যে কোন কারণেই হোক। হতে পারে আমাদের পড়ালেখার কারনে বা সামাজিকতার কারণে অথবা আমাদের শিক্ষার সাথে ইন্ড্রাষ্টির যে মিল থাকা দরকার সেটাতে আমরা কোন ঝামেলা করে ফেলছি। বিশ্বের সকল দেশে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার পর যে কোন একটা বিষয় নিয়ে পড়ে। আমাদের দেশে উল্টা তাদের ভার্সিটিতে পড়তে হবে, যার ফলে বিএ, এম পাশ করে বেকারের সংখ্যা ৪৭ শতাংশ আর যারা পড়াশোনা করে নাই সে রকম বেকারের সংখ্যা ৭-৮ শতাংশ। অনেক শিক্ষার্থী গ্রামে চলে গেছে, তাদের আমরা ভালো মানের ইন্টারনেট দিতে পারছি না। ভালো মানের ইন্টারনেট দেয়ার একটা ভালো সুযোগ আমাদের স্পেকট্রাম পরে আছে। এই স্পেকট্রাম ফ্রিতে ৬ মাসের জন্য দেয়া যেতে পারে ফলে জুমে যে ক্লাস হচ্ছে সেগুলো দেখার জন্য কানেক্টিভিটি হয়ে যেতে পারে।